| বঙ্গাব্দ

বিশ্বের দীর্ঘতম টানেল উদ্বোধন করল চীন | তিয়ানশান শেংলি টানেল | ২০২৫ খবর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-12-2025 ইং
  • 2907861 বার পঠিত
বিশ্বের দীর্ঘতম টানেল উদ্বোধন করল চীন | তিয়ানশান শেংলি টানেল | ২০২৫ খবর
ছবির ক্যাপশন: বিশ্বের দীর্ঘতম টানেল উদ্বোধন

বিশ্বের দীর্ঘতম টানেল উদ্বোধন করল চীন: তিয়ানশান পর্বতমালার বুক চিরে নয়া ইতিহাস

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকৌশল বিদ্যায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আবারও প্রমাণ করল চীন। উত্তর-পশ্চিম চীনের শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম এক্সপ্রেসওয়ে টানেল ‘তিয়ানশান শেংলি’। ২২ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সুড়ঙ্গ পথটি মধ্য তিয়ানশান পর্বতমালা ভেদ করে নির্মিত হয়েছে, যা কয়েক ঘণ্টার দুর্গম পাহাড়ি যাত্রাকে নামিয়ে এনেছে মাত্র ২০ মিনিটে।

বিশ্বরেকর্ড ও গতির বিপ্লব চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানির চেয়ারম্যান সং হাইলিয়াং জানান, এই টানেলটি দুটি বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছে। এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এক্সপ্রেসওয়ে টানেল এবং একই সঙ্গে এটি মহাসড়ক সুড়ঙ্গগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গভীর উল্লম্ব শাফট (Vertical Shaft)-এর অধিকারী। ৩২৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘জি০৭১১ উরুমকি–ইউলি এক্সপ্রেসওয়ে’-র অংশ হিসেবে এই টানেলটি তৈরি করা হয়েছে। এই পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বেইজিং খরচ করেছে প্রায় ৪৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হওয়ার ফলে শিনজিয়াংয়ের রাজধানী উরুমকি ও দক্ষিণের প্রধান শহর কোরলার মধ্যকার যাত্রার সময় ৭ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র ৩ ঘণ্টায় নেমে এসেছে। ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তিয়ানশান পর্বতমালা যা আগে উত্তরের ও দক্ষিণের মানুষের মধ্যে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, এই টানেল সেই বাধাকে চিরতরে জয় করল।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ — চীনের উত্থান ও শিনজিয়াং

চীনের এই অবিশ্বাস্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের পেছনে রয়েছে গত সাত দশকের সুপরিকল্পিত দীর্ঘ যাত্রা।

  • ১৯৫০-এর দশক ও কমিউনিস্ট বিপ্লব: ১৯৪৯ সালে মাও সে তুং-এর নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫০-এর দশকে শিনজিয়াং প্রদেশকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা শুরু হয়। ১৯৫৫ সালে শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

  • ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশক: ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে দেং জিয়াওপিং-এর 'উন্মুক্ত দুয়ার নীতি' (Open Door Policy) গ্রহণের পর চীনের অর্থনীতি ও অবকাঠামো খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন শুরু হয়। এই সময় থেকেই দুর্গম তিয়ানশান অঞ্চলে সড়ক নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করা হয়।

  • ১৯৯০ থেকে ২০০০ (শহর থেকে সীমান্তে): নব্বইয়ের দশকে চীন মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে 'ওয়েস্টার্ন ডেভেলপমেন্ট স্ট্রেটেজি' গ্রহণ করে। শিনজিয়াং এই স্ট্র্যাটেজির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

  • ২০২৪-এর ভূ-রাজনীতি ও ২০২৫-এর বিজয়: ২০২৪ সালে চীন তার 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (BRI) আরও জোরদার করে। ২০২৫ সালের এই ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে এসে তিয়ানশান টানেল উদ্বোধনের মাধ্যমে চীন কেবল অভ্যন্তরীণ যোগাযোগই সহজ করেনি, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক করিডর তৈরির পথও সুগম করল। উল্লেখ্য যে, এই অবকাঠামো নির্মাণের সমান্তরালে প্রতিবেশী ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ওপর বেইজিংয়ের দাবি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রকৌশল বিস্ময় ও আঞ্চলিক প্রভাব

প্রকৌশলীদের মতে, তিয়ানশান পর্বতমালার প্রচণ্ড শীত, তুষারপাত এবং ভৌগোলিক জটিলতাকে জয় করে পাঁচ বছরের নিরলস পরিশ্রমে এই টানেলটি তৈরি করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই টানেল কেবল ভ্রমণের সময় কমাবে না, বরং দক্ষিণ শিনজিয়াংয়ের অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার করবে এবং কৃষিপণ্য ও খনিজ সম্পদ দ্রুত পরিবহনে সাহায্য করবে।


সূত্র: ১. সিনহুয়া (রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা, চীন)। ২. এনডিটিভি ও আল-জাজিরা (অনলাইন সংস্করণ), ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫। ৩. গ্লোবাল টাইমস ও এশিয়ান অবকাঠামো রিপোর্ট।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency